Posts

গণিতজ্ঞ থেকে আলিগড়ের প্রাণপুরুষ: স্যার জিয়াউদ্দিন আহমদের এক মহিমান্বিত আত্মকথা

Image
আলিগড় আন্দোলনের ধ্রুবতারা ও গণিতসাধক: স্যার জিয়াউদ্দিন আহমদের আত্মজীবনী আমি জিয়াউদ্দিন আহমদ । ১৮৭৩ সালের ১৩ই ফেব্রুয়ারি উত্তর প্রদেশের মীরাটের এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে আমার জন্ম। আমার জীবন ছিল গণিতের জটিল রহস্য উন্মোচন এবং আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়কে বিশ্বের দরবারে তুলে ধরার এক নিরন্তর সাধনা। আজ আপনাদের শোনাব একজন গণিতবিদ থেকে আলিগড়ের অভিভাবক হয়ে ওঠার সেই অবিশ্বাস্য যাত্রার কথা। চিত্র: স্যার জিয়াউদ্দিন আহমদ (১৮৭৩ - ১৯৪৭) শিক্ষা ও বিশ্বজয়ের সংকল্প আমার শৈশব ও প্রথম পাঠ শুরু হয়েছিল মীরাটে, কিন্তু জ্ঞানের সন্ধানে আমি চলে আসি আলিগড়ের মোহাম্মাডান অ্যাংলো-ওরিয়েন্টাল (এম.এ.ও) কলেজে। আমিই ছিলাম প্রথম মুসলিম, যে এলাহাবাদ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গণিতে ডি.এসসি অর্জন করেছিল। আমার মেধা আমাকে পৌঁছে দিয়েছিল ইংল্যান্ডের কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত, যেখানে আমি মর্যাদাপূর্ণ 'আইজ্যাক নিউটন বৃত্তি' লাভ করি। পরবর্তীতে জার্মানি, ফ্রান্স এবং ইতালিতে উচ্চতর শিক্ষা নিয়ে আমি যখন দেশে ফিরি, আমার সামনে উজ্জ্বল ভবিষ্যতের হাতছানি ছিল। ...

গণমানুষের অধিকার ও বিদ্যুৎ বিপ্লবের অগ্রদূত: স্যার মুহাম্মদ হাবিবুল্লাহর জীবনগাথা

Image
ভেলোর থেকে দক্ষিণ আফ্রিকা: স্যার মুহাম্মদ হাবিবুল্লাহর এক গৌরবময় প্রশাসনিক মহাকাব্য আমি স্যার মুহাম্মদ হাবিবুল্লাহ । ১৮৬৯ সালের ২২শে সেপ্টেম্বর মাদ্রাজের এক রাজকীয় পরিবেশে আমার জন্ম। আমি আরকট রাজপরিবারের একজন সদস্য এবং আরকটের নবাবদের সাথে আমার ছিল রক্তের সম্পর্ক। শৈশব থেকেই আমি স্বপ্ন দেখতাম দেশ ও মানুষের জন্য গঠনমূলক কিছু করার। আজ আপনাদের শোনাব একজন আইনজীবী থেকে ট্রাভাঙ্কোরের দেওয়ান হওয়ার সেই দীর্ঘ ও বর্ণাঢ্য যাত্রার কথা। চিত্র: খান বাহাদুর স্যার মুহাম্মদ হাবিবুল্লাহ (১৮৬৯ - ১৯৪৮) আইন পেশা ও রাজনীতির হাতেখড়ি আমার উচ্চশিক্ষার পাঠ শুরু হয়েছিল সাইদাপেটের জিলা হাই স্কুলে, যেখানে আমি আইন নিয়ে পড়াশোনা করি। ১৮৮৮ সালের জুলাই মাসে আমি ভেলোরের বারে আইনজীবী হিসেবে যোগদান করি। তবে কেবল আদালত কক্ষের চার দেয়ালের মাঝে আমি সীমাবদ্ধ থাকতে চাইনি। ১৮৯৫ সালে আমি ভেলোর পৌরসভার সম্মানিত চেয়ারম্যান নির্বাচিত হই। জনসেবার নেশায় ১৯০১ সালে আমি আমার আইনি পেশা থেকে ইস্তফা দিই এবং দীর্ঘ ১৪ বছর ভেলোর পৌরসভার উন্নতির জন্য কাজ করি। এক নজরে আমার ...

আইনতত্ত্বের কারিগর ও দিল্লির স্পিকার: আমি বিচারপতি স্যার আবদুর রহিম

Image
বিচারপতি থেকে আইনসভার কাণ্ডারি: স্যার আবদুর রহিমের এক মহাকাব্যিক আত্মকথা আমি স্যার আবদুর রহিম । ১৮৬৭ সালের সেপ্টেম্বর মাসে বাংলার মেদিনীপুরের এক ঐতিহ্যবাহী জমিদার পরিবারে আমার জন্ম। আমার পিতা মৌলভি আবদুর রব ছিলেন এক নিষ্ঠাবান জমিদার। মেদিনীপুরের সেই শান্ত পরিবেশ থেকে শুরু করে দিল্লির কেন্দ্রীয় আইন পরিষদের স্পিকার হওয়ার যাত্রাপথটি ছিল দীর্ঘ এবং চ্যালেঞ্জিং। আজ আপনাদের শোনাব আমার সেই জীবন সংগ্ৰামের গল্প। চিত্র: স্যার আবদুর রহিম (১৮৬৭ - ১৯৫২) শিক্ষা ও আইনের জগতে পদার্পণ আমার উচ্চশিক্ষার হাতেখড়ি হয় কলকাতার বিখ্যাত প্রেসিডেন্সি কলেজে। এরপর আইনের উচ্চতর পাঠ নিতে আমি লন্ডনের মিডল টেম্পলে ভর্তি হই। ১৮৯০ সালে দেশে ফিরে আমি কলকাতা হাইকোর্টে ব্যারিস্টার হিসেবে আমার পেশাজীবন শুরু করি। আইনের সূক্ষ্ম বিচার বিশ্লেষণ আমাকে সব সময় টানত, যার ফলস্বরূপ ১৯০৮ সালে আমি মাদ্রাজ হাইকোর্টের বিচারক নিযুক্ত হই। এক নজরে আমার জীবন ও অর্জন বিবরণ তথ্য জন্ম সেপ্টেম্...

রাজপ্রাসাদ থেকে জনগণের দরবারে: স্যার রফিউদ্দিন আহমেদের এক বর্ণাঢ্য জীবনকাহিনী

Image
রাজকীয় পরামর্শক ও জনসেবক: স্যার রফিউদ্দিন আহমেদের আত্মকথা আমি স্যার রফিউদ্দিন আহমেদ । পরিচিত মহলে আমাকে সবাই 'মৌলভী' নামেই চিনতেন। ১৮৬৫ সালে পুনের পবিত্র মাটিতে আমার জন্ম। আজ যখন পেছনের দিকে ফিরে তাকাই, আমার মনে পড়ে সেই দিনগুলোর কথা যখন ভারত ও ইংল্যান্ডের রাজকীয় মহলের মধ্যে আমি এক সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করেছিলাম। আমার জীবন ছিল আইন, সাংবাদিকতা আর রাজনীতির এক রোমাঞ্চকর সংমিশ্রণ। বদরুদ্দীন তৈয়বজী: একজন আধুনিক মুসলিম ও মহান দেশপ্রেমিক শিক্ষা ও বিলেতের দিনগুলো আমার উচ্চশিক্ষার হাতেখড়ি হয়েছিল পুনের ডেকান কলেজে। কিন্তু জ্ঞানের তৃষ্ণা আমাকে নিয়ে গিয়েছিল সুদূর লন্ডনের কিংস কলেজে। ১৮৯২ সালে মিডল টেম্পল থেকে আমি ব্যারিস্টার-অ্যাট-ল ডিগ্রি অর্জন করি। সেই সময় লন্ডনে থাকা প্রতিটি দিন ছিল আমার জন্য নতুন কিছু শেখার সুযোগ। আমি শুধু আইন শিখিনি, শিখেছি কীভাবে একটি পরাধীন জাতির প্রতিনিধি হয়ে বিদেশের মাটিতে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে হয়। এক নজরে আমার পরিচয় বিবরণ তথ্য ...

আমি বদরুদ্দীন তৈয়বজী: এক ঐতিহাসিক যাত্রার গল্প

Image
জাতীয় ঐক্যের রূপকার ও প্রথম মুসলিম কংগ্রেস সভাপতি: ব্যারিস্টার বদরুদ্দীন তৈয়বজীর আত্মকথা আমি বদরুদ্দীন তৈয়বজী । আজ জীবনের শেষ প্রান্তে দাঁড়িয়ে যখন অতীতে ফিরে তাকাই, আমার চোখের সামনে ভেসে ওঠে উনিশ শতকের সেই উত্তাল ভারতবর্ষ। ১৮৪৪ সালের ১০ই অক্টোবর বোম্বাইয়ের এক সম্ভ্রান্ত সুলাইমানি বোহরা মুসলিম পরিবারে আমার জন্ম। আমার পিতা মোল্লা তায়াব আলি ভাই মিয়াঁ ছিলেন একজন দূরদর্শী মানুষ, যিনি চেয়েছিলেন তাঁর সন্তানরা যেন দেশ ও দশের সেবায় শিক্ষিত হয়ে ওঠে। বদরুদ্দীন তৈয়বজী: একজন আধুনিক মুসলিম ও মহান দেশপ্রেমিক বিলেত যাত্রা ও ব্যারিস্টারি শিক্ষা আমার শৈশবের পড়াশোনা শুরু হয়েছিল 'দাদা মাখরা মাদ্রাসা' থেকে, যেখানে আমি ফারসি ও উর্দুর প্রাথমিক জ্ঞান অর্জন করি। এরপর বোম্বাইয়ের এলফিনস্টোন ইনস্টিটিউশনে ভর্তি হই। তবে আমার স্বপ্ন ছিল আরও বিশাল। মাত্র ১৬ বছর বয়সে বড় ভাইয়ের হাত ধরে আমি লন্ডনের উদ্দেশ্যে পাড়ি জমাই। সেখানে নিউবারি হাইপার্ক কলেজে পড়াশোনা শুরু করি। ১৮৬৩ সালে আমি লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয় ও মিডল টেম্পলে আইন বিভাগে ভর্তি হই। মাঝপথে চ...